ইস্পাত শিল্পে উৎপাদন কমাতে সরকারি পর্যায়ে নেয়া উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে চীন। এ ধারাবাহিকতায় মে মাসে দেশটির অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনে বড় ধরনের হ্রাস দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে এ পতন ইঙ্গিত দিচ্ছে— উৎপাদন কমানোর সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে ইস্পাত উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
উল্লেখ্য, চীন সরকার মার্চে ইস্পাত শিল্পে উৎপাদন কমিয়ে পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। যদিও ঠিক কতটা কমানো হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (এনবিএস) গতকাল প্রকাশিত তথ্যমতে, মে মাসে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন ৬ দশমিক ৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টনে। এছাড়া জানুয়ারি-মে পর্যন্ত মোট উৎপাদন নেমেছে ৪৩ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কম।
চায়না আয়রন অ্যান্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তা গত সপ্তাহে এক শিল্প সম্মেলনে জানান, ২০২৫ সালে চীনের ইস্পাত উৎপাদন বার্ষিক ভিত্তিতে ৪ শতাংশ কমে যেতে পারে।
উৎপাদন হ্রাস ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা বাড়লেও জানুয়ারি-মে পর্যন্ত চীনের ইস্পাত রফতানি বেড়েছে ৮ দশমিক ৯ শতাংশ। এ সময় দেশটির রফতানি রেকর্ড ৪ কোটি ৮৪ লাখ ৭০ হাজার টনে পৌঁছেছে।
কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠান মাইস্টিল জানিয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথম পাঁচ মাসে চীনের অর্ধেকেরও বেশি ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লাভজনক অবস্থানে ছিল। ২০২৪ সালের একই সময়ে এ হার ছিল মাত্র ৩৫ শতাংশ।
এদিকে বিশ্বব্যাপী ইস্পাতের দাম চলতি বছর সাম্প্রতিক বাজারদরের তুলনায় কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে গবেষণা সংস্থা বিএমআই (ফিচ সলিউশনের একটি ইউনিট)। এ দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ঘিরে বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা। তবে একই সময় চীন থেকে রফতানি বৃদ্ধি পণ্যটির দামে চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
তবে এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক ‘কমোডিটিস আউটলুক’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চীনের দুর্বল রিয়েল এস্টেট খাত ও প্রধান অর্থনীতিগুলোর দুর্বল শিল্প কার্যক্রমের কারণে আকরিক লোহার দাম কম থাকবে। এতে ইস্পাত শিল্প বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার অফিস অব দ্য চিফ ইকোনমিস্ট (এওসিই) জানিয়েছে, চীনের বার্ষিক ইস্পাত উৎপাদন ২০২৪ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ কোটি ৫০ লাখ টন কমে যেতে পারে।